নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও নদী-খালের নাব্যতা সংকট নিরসনে সরকার মাঠপর্যায়ে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে বড় তিনটি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোঃ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে লুৎফুর রহমান কাজল-এর উত্থাপিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কক্সবাজারের নদী ও খাল ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এমপি কাজল কক্সবাজারের নদী-খালগুলোর “অবহেলায় ক্ষয়ে যাওয়া বাস্তবতা” তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় জেলার ছোট-বড় অধিকাংশ খালই এখন ভরাট হয়ে পড়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো কৃষক পরিবার। বিশেষ করে শহরের প্রাণপ্রবাহ বাঁকখালী নদী দিন দিন নাব্যতা হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচল ব্যাহত হচ্ছে, আর বর্ষায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। কৃষি টিকিয়ে রাখতে বর্ষার আগেই জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন এখন সময়ের দাবি।”
জবাবে প্রতিমন্ত্রী মোঃ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড-এর অধীনে কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে “ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট” প্রকল্পের আওতায় সদর ও ঈদগাহ উপজেলায় খাল খনন কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে।
এছাড়া বাঁকখালী নদী পুনরুজ্জীবন, দখলমুক্তকরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের পানি ব্যবস্থাপনা ও সেচ কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন আসবে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
প্রসঙ্গত, নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার দেশব্যাপী নদী, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধারে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় গত ১২ মার্চ রামু উপজেলার উখিয়ারঘোনায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এমপি লুৎফুর রহমান কাজল।
সংসদে এই আলোচনা ও সরকারি আশ্বাসে উপকূলীয় জনপদে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—ঘোষণা নয়, দ্রুত বাস্তবায়নই হতে হবে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
